আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ সমীকরণ ও অভেদ। এটি নবম – দশম শ্রেনী গণিতের এক চলকবিশিষ্ট সমীকরণ এর অন্তর্গত।

সমীকরণ ও অভেদ (Equation and Identity)
সমীকরণ:
সমীকরণে সমান চিহ্নের দুইপক্ষে দুইটি বহুপদী থাকে, অথবা একপক্ষে (প্রধানত ডানপক্ষে ) শূন্য থাকতে পারে। দুই পক্ষের বহুপদীর চলকের সর্বোচ্চ ঘাত সমান নাও হতে পারে। সমীকরণ সমাধান করে চলকের সর্বোচ্চ ঘাতের সমান সংখ্যক মান পাওয়া যাবে। এই মান বা মানগুলোকে বলা হয় সমীকরণটির মূল। এই মূল বা মূলগুলো দ্বারা সমীকরণটি সিদ্ধ হবে। একাধিক মূলের ক্ষেত্রে এগুলো সমান বা অসমান হতে পারে। যেমন, x2 – 5x + 6 = 0 সমীকরণটির মূল 2, 3 । আবার, (x – 3)2 = 0 সমীকরণে x এর মান 3 হলেও এর মূল 3, 3।

অভেদ:
সমান চিহ্নের দুইপক্ষে সমান ঘাতবিশিষ্ট দুইটি বহুপদী থাকে। চলকের সর্বোচ্চ ঘাতের সংখ্যার চেয়েও অধিক সংখ্যক মানের জন্য অভেদটি সিদ্ধ হবে। সমান চিহ্নের উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো ভেদ নেই বলেই অভেদ। যেমন, (x + 1 ) 2 – (x – 1)2 = 4x একটি অভেদ, এটি এর সকল মানের জন্য সিদ্ধ হবে। তাই এই সমীকরণটি একটি অভেদ। প্রত্যেক বীজগণিতীয় সূত্র একটি অভেদ। যেমন (a+b) 2 = a2 + 2ab + b2 (a – b) 2 = a 2 -2ab + b2, a2 – b2 = (a + b) (a – b), (a + b) 3 = a3 + 3a2b + 3ab2 + b3 ইত্যাদি অভেদ।
সকল সমীকরণ অভেদ নয়। অভেদে সমান (=) চিহ্নের পরিবর্তে = চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। তবে সকল অভেদই সমীকরণ বলে অভেদের ক্ষেত্রেও সাধারণত সমান চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
সমীকরণ ও অভেদের পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:
|
সমীকরণ |
অভেদ |
| ১। সমান চিহ্নের দুই পক্ষে দুইটি বহুপদী থাকতে পারে অথবা এক পক্ষে শূন্য থাকতে পারে। | ১। দুই পক্ষে দুইটি বহুপদী থাকে। |
| ২। উভয় পক্ষের বহুপদীর মাত্রা অসমান হতে পারে। | ২। উভয় পক্ষে বহুপদীর মাত্রা সমান থাকে। |
| ৩। চলকের এক বা একাধিক মানের জন্য সমতাটি সত্য হয়। | ৩। চলকের মূল সেটের সকল মানের জন্য সাধারণত সমতাটি সত্য হয়। |
| ৪। চলকের মানের সংখ্যা সর্বাধিক মাত্রার সমান হতে পারে। | ৪। চলকের অসংখ্য মানের জন্য সমতাটি সত্য। |
| ৫। সকল সমীকরণ অভেদ নয়। | ৫। সকল বীজগণিতীয় অভেদই সমীকরণ। |